1. 24sirajganj@gmail.com : Md Masud Reza : Md Masud Reza
  2. admin@dailysirajganjnews.com : unikbd :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জে খামারিদের মাঝে গো-খাদ্য বিতরণ করলেন -এমপি   হাবিবে মিল্লাত মুন্না  সিরাজগঞ্জে নগর দরিদ্র সু-রক্ষা ফোরামের ত্রৈ-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আসন্ন পবিত্র রমজানে সরকারিভাবে বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে এলজিইডি’র চলমান কাজ বাতিল করে এবার পুন:দরপত্র করার অভিযোগ এনায়েতপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার বাবা, আটক-৪ উল্লাপাড়ায় ইট ভাটা ও হাইওয়ে রেষ্টুরেন্টকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজগঞ্জে আন্দোলনে দৃষ্টি হারানোসহ ক্ষতিগ্রস্থ বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন সাইদুর রহমান বাচ্চু সিরাজগঞ্জে ইআরসিসিপি প্রকল্পের উপকার ভোগীদের আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের আর্থিক সহায়তা প্রদান সিরাজগঞ্জে কেন্দ্রীয় মন্দির মহা প্রভূর আখড়া’র কমিটি গঠন, সভাপতি প্রদীপ,সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার কানু জ্বালানি ঘাটতি প্রশমিত করতে সরকার অফশোর গ্যাস উত্তোলন বেছে নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, আটক ৪

সরিষার হলুদ ফুলে সেজেছে উল্লাপাড়ার চলনবিল অধ্যাসিত অঞ্চল

  • Update Time : শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৫৯ Time View


তারিকুল আলম, সিরাজগঞ্জঃ সরিষার ফুলে বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

হলদে শাড়ি পরে লাখ লাখ নববধূ যেন বিচরণ করছে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলার দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরিষার হলদে ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠের পর মাঠ। মাঠের দিকে তাকালে দিগন্তজুড়ে যেন হলুদ গালিচা বিছানো হয়েছে। চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কম খরচে অধিক লাভ, তাই সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ,উধুনিয়া ও বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নে চলনবিল অধ্যাসিত ফসলের মাঠের দিকে তাকালে মনে হয় ফসলের মাঠ যেন সেজেছে গায়ে হলুদের সাজে। মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ রাজার দেশে মৌমাছির মধু সংগ্রহের গুঞ্জনে মুখরিত ফসলের মাঠ। সরিষার ফুলে বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

সরিষা চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। সরিষা চাষে সময় লাগে কম, খরচও কম, লাভ বেশি হওয়ায় সরিষা উৎপাদনের আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে কৃষকরা লাভবানের পাশাপাশি দেশে তেলের ঘাটতি মিটানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ব্যাপক পরিমাণে সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষকরা বারী ১৪, ১৭, ১৮ ও বীনা ৮, ৯, ১১ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, চলন বিল অঞ্চল হওয়ায় পলি মিশ্রিত জমি সরিষা চাষের উপযোগী।সেচ, সার ও অন্যান্য খরচ কম হওয়ায় সরিষা চাষে লাভ হয় বেশি। তা ছাড়া সরিষার তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলেছেন, উপজেলার বেশিরভাগ জমিতে কৃষকরা দুটি ফসল উৎপাদন করে থাকেন; কিন্তু সেই জমিতে সরিষা চাষ করলে ওই জমিতে তিনটি ফসল উৎপাদন করা যায়। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন, অপরদিকে পুষ্টিকর ভোজ্য তেলের চাহিদাও মিটবে। তাই তারা সরিষা চাষ করতে কৃষকদের বিনামূল্য সরিষার বীজ ও সার দিয়ে উৎসাহিত করেছেন।

কৃষকরা বলছেন, আমন কাটা-মাড়াইয়ের পর ৩-৪ মাস পর্যন্ত জমি পতিত থাকে। এই সময়ে পতিত জমিতে বাড়তি লাভের আশায় সরিষা চাষ করেন তারা। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো আবাদ করা যায়। এতে অল্প সময়ে একই জমিতে দুটি ফসলের চাষে লাভবান হওয়া যায়। জমিতে সরিষা রোপণ করা থেকে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে সব মিলিয়ে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে সরিষা উৎপাদন হয় ৫-৬ মণ। সরিষার দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে ইরি বোরো চাষে খরচ করা যায় পাশাপাশি তাদের ভোজ্য তেলের চাহিদাও মিটানোও সম্ভব।

উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক বেল্লাল , ইসমাইল ও তফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা দুই বিঘা করে জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে দুই হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ক্ষেতে গেলে প্রাণটা ভরে যায়। তারা বলেন, আশা করছি ভালো ফলন হবে। এই সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের তেল ও সার কেনার টাকা জোগাড় হয়ে যাবে তাদের। এ ছাড়া বর্তমানে সয়াবিন তেলের দাম বেশি। তাই বিকল্প হিসেবে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারব। তা ছাড়া সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।

উপজেলা কৃষি ও অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী যেহেতু তেল উৎপাদন কম হয়। তাই আমরা একটা লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি। আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তৈলাক্ত ফসলের ৫০ ভাগ আমাদের দেশ থেকে উৎপাদন করতে চাই। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কৃষকদের সরিষা চাষ করতে প্রণোদনা দিচ্ছি ও কৃষকদের লাভের জন্য দুই ফসলি থেকে তিন ফসলি জমি তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
  • © All rights reserved © 2023 Daily Sirajganj News
Website Developed by UNIK BD