1. 24sirajganj@gmail.com : Md Masud Reza : Md Masud Reza
  2. admin@dailysirajganjnews.com : unikbd :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জে খামারিদের মাঝে গো-খাদ্য বিতরণ করলেন -এমপি   হাবিবে মিল্লাত মুন্না  সিরাজগঞ্জে নগর দরিদ্র সু-রক্ষা ফোরামের ত্রৈ-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে “ক্লিন সিরাজগঞ্জ’ গ্রীন সিরাজগঞ্জের কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ এস.বি রেলওয়ে কলোনী হাই স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে শহীদদের প্রতি ফুলেল বিনম্র শ্রদ্ধা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মেমোরিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন কাজিপুরে স্বর্ণ কিশোরীদের সুরক্ষায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে স্যানিটারি সামগ্রী বিতরণ সিরাজগঞ্জ জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু -কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৪ অনুষ্ঠিত একুশে পদক-২০২৪ বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কাল প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক-২০২৪ বিতরণ করবেন কাল

বেলকুচিতে ১৩ লাখ টাকার সরকারি ভবন বিক্রি সোয়া ৩ লাখে 

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অদৃশ্য কারণে ১৩ লাখ টাকার দুটি সরকারি স্থাপনা বিক্রি হয়েছে মাত্র সোয়া তিন লাখ টাকায়। এছাড়াও নিয়মানুযায়ী স্থাপনাগুলো হাত বদলের বা দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় ব্যক্তির কাছে বিক্রির নিয়ম না থাকলেও সরকারি কার্যাদেশ পাওয়ার আগেই স্থাপনাগুলো তিন হাত বদল হয়ে গেছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সরকারি একটি ডরমেটরি ও মসজিদ নিলামে বিক্রির জন্য মূল্য নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বেলকুচি উপজেলা কার্যালয়। প্রধান কারচুপিটা এখান থেকেই শুরু হয়। দুইতলা বিশিষ্ট ডরমেটরি ও মসজিদ এই পাকা স্থাপনা দুটির বেলকুচি উপজেলা প্রকৌশল অফিস মূল্য নির্ধারণ করে মাত্র ২ লাখ টাকা। দেড় বছর আগে নির্ধারণ করা এই মূল্যেই গত ১২ নভেম্বর-২০২৩ তারিখে নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলাম কমিটির সভাপতি বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া সুলতানা কেয়া। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত মাসের (২৮ নভেম্বর) তারিখে দুইটি স্থাপনার জন্য আলাদা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় উপজেলা পরিষদ মসজিদ, যেটা ক্রয় করেন বেলকুচি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী শেখ এবং মাত্র ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয় ডরমেটরি ভবন, যেটা নিলামে ক্রয় করেন বেলকুচি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মীর সেরাজুল ইসলাম।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বেলকুচি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী শেখ মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় উপজেলা পরিষদ মসজিদটি কিনে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সেটি আবার আরমান নামে এক ব্যক্তির কাছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আরমান আবার সেটি কালু নামের এক ভাঙারি দোকানির কাছে বিক্রি করেন সাড়ে ৫ লাখ টাকায়। এরপর কার্যাদেশ পাবার আগেই ভবনটি ভাঙ্গারও চেষ্টা করেন তারা।

আরমান আলী বলেন, আমি নিলামে বিক্রি হওয়া মসজিদটি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখের কাছ থেকে ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় কিনেছি এবং সাড়ে ৫ লাখ টাকায় বেলকুচিরই এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর কাছে আবার বিক্রি করেছি। তবে এর মাঝে কোনও নিয়মনীতি আছে কিনা আমি জানি না।

তিনি আরও বলেন, আমি যার কাছে বিক্রি করেছি সেও আবার জানালা-দরজা আলাদা করে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেছে। এছাড়াও ডরমেটরি যিনি নিলামে কিনেছেন তিনি আবার ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে বলে জানি।

মসজিদ নিলামে কিনে পুনরায় বিক্রি করা ও এখনো কার্যাদেশ না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বেলকুচি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী শেখ বলেন, আমি উন্মুক্ত নিলামে মসজিদটি কিনে নিয়ে আবার বিক্রি করেছি। সে আবার বিক্রি করেছে কিনা জানি না। তিনি বলেন, কেউ কিনলে সে তো বিক্রি করে লাভবান হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নিলামে কিনে বিক্রির বা হাতবদলের নিয়ম নাই এমন কিছু আমি জানি না। এছাড়াও এখনো কার্যাদেশ পাননি বলেও জানান তিনি।

দুইটি স্থাপনাই সর্বশেষ কিনে নিয়েছেন বেলকুচির ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী কালু। তিনি মসজিদ ও ডরমেটরি ভবন দুইটি তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে কিনে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি আরমানের কাছ থেকে মসজিদ ভবনটি কিনেছি ৬ লাখ টাকায় ও মীর সেরাজুলের ভাগিনা সোহেলের কাছ থেকে ডরমেটরি ভবনটি কিনেছি ৭ লাখ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, আমি সমস্ত টাকা পরিশোধ করে এত টাকা দিয়ে ভবন দুটি কিনেও কাগজপত্র না পাওয়ায় ভাঙ্গতে পারছি না। এদিকে ইটের দাম আবার কমে গেছে। এখন আমিই বিপদে পড়ে গেছি।

এ ব্যাপারে নিলামে ডরমেটরি ভবন ক্রয় করা মীর সেরাজুলের ভাগিনা সোহেল রানা বলেন, আমার মামা নিলামে একটি স্থাপনা ক্রয় করেছে, আমি তার হয়ে কাজটি করছি। কিন্তু আমরা কারো কাছে কাজটি বিক্রি করিনি। কালুকে আমরা লেবার হিসেবে নিয়েছি, সে আমাদের লেবার দিবে। যদি সে বলে থাকে কাজটি কিনেছে তাহলে সে মিথ্যা বলেছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার বেলকুচি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মীর সেরাজুল হক বলেন, ওপেন নিলাম ডাকে আমার লাইসেন্সে স্থানীয় কয়েকজন অংশ নিয়েছিল। ডাকে ডরমেটরি ভবনটি আমি পেয়েছি। পরে কালু নামে একজনের কাছে বেশি লাভে ভবনটি বিক্রি করে দিয়েছে আমার ভাগিনা।

তবে কাজটি হাত বদল হওয়ার বিধান আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিধান থাকলেও মানা হয় না। আমরা ঠিকাদার, কমদামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করি। এটাই আমাদের ব্যবসা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বেলকুচি উপজেলা প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দীন খান বলেন, স্থাপনা দুটির মূল্য নির্ধারণটা (ইস্টিমেট) করা হয়েছে দেড় বছর আগে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এটা নিলাম করতে দেরি হলো।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখান থেকে মূল্য নির্ধারণ করে পাঠাই। তারপর সেটা কমিটিতে পাস হয়ে মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে আসার পরেই এখানে নিলাম হয়েছে। যেখানে সরকারি মূল্য লাখ টাকা হলেও আমরা এর চেয়ে বেশি টাকায় বিক্রি করি।

এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, হাত বদল হওয়াটা সম্পূর্ণ অবৈধ, তাই হাত বদলের প্রশ্নই আসে না।

সরকারি কোনও কর্মকর্তার সামনে হাত বদল হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা এখনো কার্যাদেশই দেয়নি সেখানে তারা কিভাবে হাত বদল করলো এটা বোধগম্য নয়। তবে হাত বদলের কোনও তথ্য থাকলে নিলাম কমিটির সভাপতি বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া সুলতানা কেয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নিলামে কেউ কিনে থাকলে তিনি নিজেই সেটা অপসারণ করবেন তারপরে অন্যান্য মালামাল বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু নিলামে কিনে সেই অবস্থাতেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোনও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে পারবেন না। এটা করার সুযোগ নেই এবং অন্যায়।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও যে স্থাপনা দুইটি সর্বশেষ এসে কেউ ১৩ লাখ টাকায় কেনে সেটা ৩ লাখের একটু বেশি টাকায় কিভাবে নিলাম হয় এটার প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
  • © All rights reserved © 2023 Daily Sirajganj News
Website Developed by UNIK BD